ঢাকায় বসে ডলার আয় — তানভীরের গল্প
শুরুটা যেভাবে হয়েছিল
আমার নাম তানভীর। ঢাকার মিরপুরে থাকি। আগে একটা লোকাল আইটি ফার্মে চাকরি করতাম — বেতন ৪৫ হাজার টাকা। শুনতে খারাপ না, তাই না? কিন্তু ঢাকায় ৪৫ হাজারে... বাসা ভাড়াই ২০ হাজার। বাকিটা দিয়ে সংসার চলে ঠিকই, কিন্তু সঞ্চয়? শূন্য। একদিন ফেসবুকে এক বড় ভাইয়ের পোস্ট দেখলাম — "Upwork থেকে মাসে ২ লাখ টাকা আয় করছি।" আমি ভাবলাম, ধুর, মিথ্যা কথা। কিন্তু কৌতূহল তো... রাতে ঘুম হয়নি। পরদিন অ্যাকাউন্ট খুলে ফেললাম।
- প্রথম ২ মাস কোনো কাজ পাইনি। হতাশ হয়েছিলাম, সত্যি বলছি।
- তৃতীয় মাসে প্রথম ক্লায়েন্ট — ২০০ ডলারের একটা প্রজেক্ট। হাত কাঁপছিল।
- এখন মাসে গড়ে ২,৮০০ ডলার আয় হয়। ঢাকায় বসে।
টাকার হিসাব — আসল চিত্র
২,৮০০ ডলার মানে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ঢাকায় এই টাকায়... রাজার হালে থাকা যায়। ধানমন্ডিতে ভালো ফ্ল্যাট ৪০ হাজার। খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াত মিলিয়ে আরও ৪০ হাজার। বাকি ২.৫ লাখ? সঞ্চয়। আগে যেখানে সঞ্চয় ছিল শূন্য, এখন... বিশ্বাস হয় না মাঝে মাঝে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার — আমেরিকায় এই লাইফস্টাইলের জন্য ৮,০০০ ডলার লাগতো।
ব্যাংক আর কাগজপত্র — বিরক্তিকর কিন্তু জরুরি
একটা কথা খোলাখুলি বলি — ব্যাংকিং চ্যানেলটা বিরক্তিকর। Payoneer থেকে টাকা আসতে ২-৩ দিন লাগে। প্রতিবার ব্যাংক সার্টিফিকেট নিতে হয়। কিন্তু এটা করতেই হবে। অনেকে হুন্ডিতে টাকা আনে — ভাই, এটা করবেন না। একবার ধরা পড়লে... শেষ। আমি প্রতিটা পেমেন্টের সার্টিফিকেট একটা ফাইলে রাখি। ট্যাক্স রিটার্নের সময় কাজে লাগে। আর "সম্পূর্ণ করমুক্ত" শুনে কাগজপত্র ফেলে দেবেন না — সুবিধা পেতে হলেও প্রমাণ লাগে।
মনে রাখবেন: ডলার সবসময় ব্যাংকিং চ্যানেলে আনুন। সার্টিফিকেট সংরক্ষণ করুন — এটাই আপনার নিরাপত্তা।